October 18, 2026, 12:48 am
শিরোনাম:
লামা পৌর বাস টার্মিনালে অবৈধ প্লট বরাদ্দ বাতিল ও পরিবহন সমিতিকে প্লট বরাদ্দের দাবিতে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের সংবাদ সম্মেলন পার্বত্য এলাকায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে প্রতিটি দপ্তরকে পারস্পরিক সহযোগিতায় কাজ করতে হবে: মীর হেলাল পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রীর সাথে বান্দরবান জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের বিশেষ সাক্ষাৎ ইউএনও মোঃ মঈন উদ্দিনকে বিদায় সংবর্ধনা দিলো লামা প্রেসক্লাব বান্দরবানের দপ্তর প্রধানদের নিয়ে নুতুন জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত মাটিরাঙ্গায় সংঘটিত ডাকাতির ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেন খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার টোল আদায়ের নামে আওয়ামী চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদা বাজির অভিযোগ সাইট এইড ফাউন্ডেশন’র উদ্যোগে লামায় বিশ্ব দৃষ্টি দিবস পালিত বিপদে, দুর্যোগে, দুর্ঘটনায় মানুষের পাশে-বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ: থানচিতে পর্যটকবাহী গাড়ি খাদে, নিহত ২ আহত ৫ লামার ফাইতংয়ে ১৩ ইটভাটায় অভিযান: ২৯ লাখ টাকা জরিমানা

লামায় গোলটেবিল বৈঠক: জেলা পরিষদে ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব ও লামাকে জেলা ঘোষণার দাবিতে কর্মসূচির সিদ্ধান্ত

প্রতিবেদক:

এম. রুহুল আমিন:

২৭ আগস্ট ২০২৬:
বান্দরবানের লামা প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে লামা উন্নয়ন ও জেলা বাস্তবায়ন কমিটির উদ্যোগে লামা উপজেলার ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব, নবগঠিত বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদে লামার প্রতিনিধিত্ব না থাকা এবং দীর্ঘদিনের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক দাবিসমূহ নিয়ে এক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন লামা উন্নয়ন ও জেলা বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী এম রুহুল আমিন। সভা সঞ্চালনা করেন কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক মো. কামরুজ্জামান।

সভায় রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, আইনজীবী, প্রকৌশলী এবং বিভিন্ন পেশাজীবী ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সভায় “নবগঠিত বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদে লামা উপজেলার কোনো সদস্য বা প্রতিনিধি না রাখা, লামার ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব এবং দীর্ঘদিনের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক দাবিসমূহ” বিষয়ে আলোচনার জন্য একটি উপস্থাপনযোগ্য পেপার উপস্থাপন করেন সাংবাদিক মো. কামরুজ্জামান। এতে লামার জনগণের প্রতিনিধিত্ব, প্রশাসনিক গুরুত্ব, ঐতিহাসিক অবস্থান, উন্নয়ন সম্ভাবনা এবং জেলা ঘোষণার দাবির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

সভায় বক্তব্য রাখেন যুব নেতা আদহাম বিন ইব্রাহিম, মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, সাংবাদিক আল আমিন, শহীদুল ইসলাম, করিম, এমদাদুল ইসলাম, ফরহাদ হোসেন, আবদুল্লাহ আল মামুন, আবু মিয়া, নুরুল আলম, কামালুদ্দিন, রফিকুল ইসলাম ও আমিনুল ইসলাম খন্দকার; নারী নেত্রী আনোয়ারা বেগম, রোকেয়া বেগম ও খালেদা বেগম; মৌলানা শফিকুর রহমান; এনসিপি নেতা নাজমুল হাসান; অ্যাডভোকেট সাদেকু মাওলা ইরাক; উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মোহাম্মদ ইব্রাহিম; কমিশনার মোহাম্মদ শাহজাহান; আকতার উদ্দিন তপন; প্রকৌশলী শাহদাত; অধ্যাপক ফারুক আহমেদ; অ্যাডভোকেট আরিফ চৌধুরী; উপজাতি নেতা থু নি মং এবং লামা প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক প্রিয়দর্শী বড়ুয়াসহ অনেকে।

বক্তারা বলেন, লামা উপজেলা বান্দরবান জেলার জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ একটি উপজেলা। অথচ নবগঠিত বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদে লামা উপজেলার পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্য থেকে কোনো সদস্য বা প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত না করায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে।

তারা বলেন, একটি জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে জনসংখ্যা, ভৌগোলিক গুরুত্ব, প্রশাসনিক প্রয়োজন ও জনগণের ন্যায্য অধিকার বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। লামাকে প্রতিনিধিত্বশূন্য রাখার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান বক্তারা।

গোলটেবিল বৈঠকে লামার ঐতিহাসিক ও প্রশাসনিক গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তারা সাবেক লামা মহকুমাকে জেলা ঘোষণার প্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার এবং লামাকে জেলা ঘোষণার দাবিতে নিয়মতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বক্তারা আরও বলেন, লামার ইতিহাস, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, পাহাড়ি-বাঙালি জনগোষ্ঠীর সহাবস্থান এবং অর্থনৈতিক ও পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ ও কার্যকর উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রয়োজন। এ জন্য লামাকে জেলা ঘোষণার দাবি বাস্তবায়নে জনমত গঠন, তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ধারাবাহিক কর্মসূচি গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।

৭ সদস্যের তথ্য সংগ্রহ কমিটি:
সভায় যুব নেতা আদহাম বিন ইব্রাহিমকে আহ্বায়ক করে ৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি তথ্য সংগ্রহ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে লামাকে জেলা ঘোষণার দাবির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি গেজেট, প্রজ্ঞাপন, প্রশাসনিক নথি, ঐতিহাসিক তথ্য, পূর্ববর্তী উদ্যোগ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ ও অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

তথ্য সংগ্রহ কমিটি সংগৃহীত তথ্য যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী সময়ে লামা উন্নয়ন ও জেলা বাস্তবায়ন কমিটির কাছে প্রতিবেদন উপস্থাপন করবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত হয়।

সভায় বক্তারা লামার ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, উন্নয়ন ও প্রশাসনিক বৈষম্য দূর করা এবং লামাকে জেলা ঘোষণার দাবিকে আরও সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে ভবিষ্যতে ধারাবাহিক কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন।

সভা শেষে লামার স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবিগুলো দল-মত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে এবং শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে তুলে ধরার আহ্বান জানানো হয়।



Parbotto TwentyFour