বিশেষ প্রতিনিধি:
বান্দরবানের লামা উপজেলায় বসতভিটা ও বাগান জমি অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা এবং ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার কর্তৃক ঘু'ষ দাবির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী চিত্ৰ রঞ্জন বড়ুয়া।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, প্রভাবশালী চ'ক্রের সঙ্গে যোগসাজশ করে লামা উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মোঃ আতিকুর রহমান তার পক্ষে প্রতিবেদন দিতে ৫ লাখ টাকা ঘু'ষ দাবি করেছেন।
লিখিত বক্তব্যে চিত্ত রঞ্জন বড়ুয়া (পিতা: মৃত নিকুঞ্জ বিহারী বড়ুয়া, সাং: লেইংগ্যা ঘোনা, ২ নম্বর লামা সদর ইউনিয়ন) জানান, লামা মোজার ১৭ নম্বর হোল্ডিংয়ে সাড়ে তিন একর (৩ একর ৫০ শতক) জমি তিনি ও তার স্ত্রী কামনা রানী বড়ুয়া দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন। সেখানে তারা পরিশ্রম ও অর্থ বিনিয়োগ করে সেগুন, একাশি, আম, কাঁঠালসহ বিভিন্ন ফলজ ও বনজ গাছের বাগান গড়ে তোলেন।
তিনি আরও জানান, মোঃ আলমগীর (পিতা: মোঃ ইউনুছ) নামের এক ব্যক্তি আশ্রয় চাইলে তিনি মানবিক বিবেচনায় জমিতে সাময়িকভাবে বসবাসের সুযোগ দেন। কিন্তু পরবর্তীতে আলমগীর ও তার সঙ্গীরা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে জমির মালিকানা দাবি করতে শুরু করে।
এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগী অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, বান্দরবানের আদালতে মামলা (মামলা নং—১৬/২০২৬, তারিখ: ২২ জুলাই ২০২৬) দায়ের করেন। আদালত সহকারী কমিশনার (ভূমি), লামাকে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। কিন্তু সহকারী কমিশনারের নির্দেশে তদন্তে যাওয়া সার্ভেয়ার মোঃ আতিকুর রহমান নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন না করে বিবাদী মোঃ আলমগীরের পক্ষে পক্ষপাতমূলক প্রতিবেদন তৈরি করেন। পরবর্তীতে সঠিক প্রতিবেদন দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সার্ভেয়ার আতিকুর রহমান ভুক্তভোগী চিত্ত রঞ্জন বড়ুয়ার কাছে ৫ (পাঁচ) লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী আরও বলেন, বিবাদী মোঃ আলমগীরের জাতীয় পরিচয়পত্র এবং ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ারিশ সনদে গুরুতর অসঙ্গতি রয়েছে। ২ নম্বর লামা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলামের স্বাক্ষরযুক্ত ওয়ারিশ সনদে ভুয়া তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন করা ৬ টি দাবি:
১. জমির মালিকানা, দখল ও সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা।
২. বান্দরবান আদালতের ১৬/২০২৬ নম্বর মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ও প্রক্রিয়া পুনরায় পর্যালোচনা করা।
৩. সার্ভেয়ার মোঃ আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে ৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবির নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ।
৪. বিবাদী মোঃ আলমগীরের এনআইডি ও ওয়ারিশ সনদের সততা যাচাই করে জালিয়াতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।
৫. ইউপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা তদন্ত করা।
৬. তদন্ত চলাকালীন জমি ও সম্পত্তির ওপর ভুক্তভোগীর অধিকার সুরক্ষার ব্যবস্থা করা।
ভুক্তভোগী চিত্ত রঞ্জন বড়ুয়া অবিলম্বে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিচার বিভাগের হস্তক্ষেপ কামনা করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।