October 17, 2026, 11:37 pm
শিরোনাম:
লামা পৌর বাস টার্মিনালে অবৈধ প্লট বরাদ্দ বাতিল ও পরিবহন সমিতিকে প্লট বরাদ্দের দাবিতে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের সংবাদ সম্মেলন পার্বত্য এলাকায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে প্রতিটি দপ্তরকে পারস্পরিক সহযোগিতায় কাজ করতে হবে: মীর হেলাল পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রীর সাথে বান্দরবান জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের বিশেষ সাক্ষাৎ ইউএনও মোঃ মঈন উদ্দিনকে বিদায় সংবর্ধনা দিলো লামা প্রেসক্লাব বান্দরবানের দপ্তর প্রধানদের নিয়ে নুতুন জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত মাটিরাঙ্গায় সংঘটিত ডাকাতির ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেন খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার টোল আদায়ের নামে আওয়ামী চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদা বাজির অভিযোগ সাইট এইড ফাউন্ডেশন’র উদ্যোগে লামায় বিশ্ব দৃষ্টি দিবস পালিত বিপদে, দুর্যোগে, দুর্ঘটনায় মানুষের পাশে-বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ: থানচিতে পর্যটকবাহী গাড়ি খাদে, নিহত ২ আহত ৫ লামার ফাইতংয়ে ১৩ ইটভাটায় অভিযান: ২৯ লাখ টাকা জরিমানা

লামার ফাঁসিয়াখালীতে অবৈধ বালু উত্তোলন: পরিবেশ ধ্বংসের নীরব মহোৎসব

প্রতিবেদক:

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন – এম. রুহুল আমিন:
বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে অবৈধ বালু উত্তোলন এখন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রশাসনের চোখের সামনে কিংবা অদৃশ্য প্রভাবের ছত্রছায়ায় ইউনিয়নের একাধিক এলাকায় প্রতিদিন চলছে বালু লুটপাট—যার ফলে পরিবেশ, কৃষি ও জনজীবনে নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়।

🔍 কোথায় কীভাবে চলছে বালু উত্তোলন: স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ১ ও ২নং ওয়ার্ডে শতাধিক পয়েন্টে অবাধে বালু উত্তোলন চলছে।

বিশেষ করে নিম্নোক্ত এলাকাগুলো এখন বালু উত্তোলনের হটস্পটে পরিণত হয়েছে—
ফকিরাখোলা, কামমার ঝিরি, আব্দুল্লাহ ঝিরি, কুরুকপাতা ঝিরি, লাইল্যারমার পাড়া, সাপেরঘারা
এসব পাহাড়ি ঝিরি ও খাল থেকে প্রতিদিন অবৈধভাবে বালু কেটে ট্রাকে তোলা হচ্ছে, যা পরিবহন করা হচ্ছে অন্যত্র।

🚛 পাচারের রুট: ফাঁসিয়াখালী থেকে ডুলহাজারা
প্রতিদিন কয়েক হাজার ট্রাক ও ডাম্পারযোগে উত্তোলিত বালু পাচার করা হচ্ছে পাশের কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার ডুলহাজারা ইউনিয়নের পাগলির বিল এলাকায়।
সেখানে তৈরি হয়েছে বিশাল বালুর মজুদ কেন্দ্র। পরে সেখান থেকে বিভিন্ন স্থানে এই বালু সরবরাহ করা হয়।

👉 স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এটি একটি সুসংগঠিত চক্রের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।
⚠️ পরিবেশ ও জনজীবনে বিপর্যয়
অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে ইতোমধ্যে দেখা দিয়েছে গুরুতর প্রভাব—
🌱 পরিবেশগত ক্ষতি
পাহাড়ি ঝিরি ও খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত
ভূমিক্ষয় ও পাহাড় ধসের ঝুঁকি বৃদ্ধি
জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি
🌾 কৃষিতে প্রভাব
চাষযোগ্য জমি ভেঙে যাচ্ছে
সেচব্যবস্থা ব্যাহত
🏠 জনজীবনে দুর্ভোগ
গ্রামীণ সড়ক ভেঙে পড়ছে ভারী যানবাহনের চাপে
ধুলাবালি ও শব্দ দূষণ বৃদ্ধি
দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে

🗣️ স্থানীয়দের ক্ষোভ
এলাকাবাসীরা অভিযোগ করে বলেন,
“প্রতিদিন হাজার হাজার গাড়ি বালু যাচ্ছে, কিন্তু কেউ দেখার নেই। প্রশাসনের কাছে বারবার অভিযোগ দিয়েও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”

তাদের দাবি—
দ্রুত অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করতে হবে
জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবেশ পুনরুদ্ধারে উদ্যোগ নিতে হবে

🏛️ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান
স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীরা নিম্নোক্ত কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন—
লামা উপজেলা প্রশাসন
চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন
বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তর

📌 আইনি প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশে বালু উত্তোলন নিয়ন্ত্রিত হয় “বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০” অনুযায়ী।
এই আইনে—
অনুমোদন ছাড়া বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ
অপরাধ প্রমাণিত হলে জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে
কিন্তু বাস্তবে আইনের প্রয়োগ না থাকায় এমন অবৈধ কর্মকাণ্ড দিন দিন বেড়েই চলেছে।

🧭 সুপারিশ
এই সংকট মোকাবেলায় বিশেষজ্ঞরা যেসব পদক্ষেপ জরুরি মনে করছেন—
অবৈধ পয়েন্টগুলোতে তাৎক্ষণিক অভিযান
বালু পরিবহনে চেকপোস্ট ও নজরদারি বৃদ্ধি
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা
পরিবেশ পুনরুদ্ধারে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ

📢 উপসংহার
ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের অবৈধ বালু উত্তোলন এখন শুধু একটি স্থানীয় সমস্যা নয়—এটি একটি বৃহৎ পরিবেশগত সংকটে রূপ নিয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
👉 এখনই সময়—প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ ও আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা।



Parbotto TwentyFour