লামা প্রতিনিধি:
৩ জুলাই ২০২৬, বান্দরবানের লামায় কয়েক যুগ ধরে চলে আসা গরুর মাংস বিক্রয় সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে “সঠিক মূল্যে, সঠিক ওজনে, সঠিক পণ্য সরবরাহ” কর্মসূচি হাতে নিয়ে গরুর মাংস বিক্রয় শুরু করেছে লামার সামাজিক সংগঠন ন্যায্য।
সংগঠনটির নামের মাঝেই প্রকাশ পায় ন্যায্যতার প্রতিচ্ছবি। ন্যায্য সামাজিক সংগঠনের আয়োজনে আজ ন্যায্য মূল্যে গরুর মাংস বিক্রয় করা হয়। হাড্ডি মাংস বিক্রয় করে ৭৫০ টাকায়, শুধু গরুর মাংস বিক্রয় করে ৮৫০টাকায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ভাইরাল বিষয় হচ্ছে, কেউ চাইলে ৫০ টাকার গরুর মাংসও কিনতে পারবে। জানা যায় এরমাঝে ৮জনকে তারা ১০০টাকা করে গোস্ত বিক্রয় করে।
ন্যায্যের সভাপতি মো: ইউনুস বলেন, আমরা জন্মের পর থেকেই দেখে আসছি, এই অপসিন্ডিকেট আজীবন গরীবের পেটে লা’থি মে’রে আসছে। যারা টাকাওয়ালা, তারা নিরবে দৈনন্দিন প্রয়োজনতার ফলে মূখবুজে সহ্য করে এসেছে। আজ পরিবর্তনের সময়।
মাংস বিক্রয় কেন্দ্রের প্রতিনিধি আবচার উদ্দিন বলেন, আমরা ন্যায্যে গোস্ত বিক্রয়ের জন্য প্রশাসন কর্তৃক নির্ধারিত জায়গায় আসলে অপসিন্ডিকেটের সদস্যরা আমাদের কার্যক্রমে বাঁধা প্রদান করে। তারা কোনো ভাবেই এখানে মাংস বিক্রয় করতে দিবে না। তারা বলতে চাইছে, এটা তাদের বাপ-দাদাদের সম্পদ ও আধিপত্যের জায়গা। এখানে তারাই হর্তাকর্তা। পরিশেষে লামা উপজেলা প্রশাসন সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দের অবস্থানে আজকের মতো গরুর মাংস বিক্রয় করা হয়।
আবচার বিশেষ করে বলেন, আজ হয়তো তারা আমাদেরকে অল্প ঝামেলায় কিছু করতে পারেনি। আগামীতে তারা তাদের স্বার্থ উদ্ধারে যেকোনো ঝুকি নিতে পারে বলে আমরা মনে করছি। যে যাই করুক না কেনো, আমাদের সামাজিক সংগঠন ন্যায্যের কাজ বন্ধ করার সাহস কেউ দেখালে সেটারও প্রতিহত করা হবে।
লামা জনসাধারণের মুখে মুখে রব উঠেছে, অসীম সময়ের এই সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে ন্যায্য যে সামাজিক উদ্যোগ নিয়েছে তা অ’পশক্তির মূলে আগাত করেছে। এমন উদ্যোগকে প্রশাসনিক ভাবে পৃষ্ঠপোষকতা দেয়া সকলের নৈতিক দায়িত্ব ও সময়ের দাবী।
ন্যায্য কর্তৃপক্ষ জানায়, সপ্তাহের শুক্রবার, শনিবার ও মঙ্গলবার ধারাবাহিক ভাবে সুবিধাবঞ্চিত লামাবাসির সেবায় গরুর মাংস বিক্রয় চলমান থাকবে।
জানা যায়, শতাধিক সমাজ সচেতন তরুণদের নিয়ে পরিচালিত এই ন্যায্য সংগঠনটি লামার যেকোনো সংকটে এগিয়ে আসার প্রত্যয়ে অঙ্গিকারবদ্ধ।